আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে স্বর্ণের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ব্যাপকভাবে মূল্যবান ধাতুটির ক্রয় বাড়িয়েছে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তবে এ চাহিদা রুপার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না। এ পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে থাকা স্বর্ণ ও রুপার দামের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ভেঙে গেছে। সাধারণত ‘গোল্ড-সিলভার রেশিও’ নামে পরিচিত এ অনুপাত ৪৫ থেকে ৮০-এর মধ্যে থাকত। কিন্তু ২০২২ সালের পর এ অনুপাত বেড়ে বর্তমানে ১০২-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক আউন্স স্বর্ণ কিনতে বর্তমানে আরো অনেক বেশি রুপা প্রয়োজন হচ্ছে। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ ও রূপার দামের চার দশকের পুরনো আনুপাতিক সম্পর্ককে ভেঙে দিয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে রুপা কেনা খুব বেশি লাভজনক সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। বরং সে তুলনায় স্বর্ণে বিনিয়োগ করাই এখন সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় ও মুনাফাজনক। খবর বিজনেস ইনসাইডার।
ব্যাংকটি জানায়, রাশিয়ার রিজার্ভ জব্দ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুপার দাম স্বর্ণের দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা মূল্যবান ধাতুটির দামে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে, যা রুপার ক্ষেত্রে নেই। ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে চীনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগ এ প্রবণতা আরো জোরালো করেছে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। মূল্যবান ধাতুটির দাম বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে রুপার দাম বছরজুড়ে বেড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।
রুপার ওপর আরো একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে চীনের সৌর প্যানেল শিল্পের ধীরগতি। কারণ সৌর প্যানেল তৈরিতে রুপার ব্যবহার হয় ব্যাপকভাবে। উৎপাদনে অতিরিক্ত সরবরাহ ও বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা এ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়ের ধারা ২০২৫ সালেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সৌর উৎপাদন হ্রাস, উচ্চ মন্দার ঝুঁকি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদার কারণে স্বর্ণের বাজারদর রুপার তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাই তারা মনে করছেন, মূল্যবান ধাতুটির দাম চলতি বছরের শেষ নাগাদ আউন্সে ৩ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।